ভারতের সেনাবাহিনীতে অধিকাংশ প্রদেশ ও জাতিগোষ্ঠীর নামে রেজিমেন্ট আছে । ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির অব্যবহিত পরেই ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেসকল রেজিমেন্টকে একত্রিত করে ভারতীয় সেনাবাহিনী গঠিত হয়।যেমন পাঞ্জাব রেজিমেন্ট, বিহার রেজিমেন্ট , গুর্খা রেজিমেন্ট , রাজপূত রেজিমেন্ট ইত্যাদি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বা ওপারের বাঙালির নামে বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেখানে যুক্ত করা হয় নি কখনো l এই না হওইয়ার জন্য দুইটা ব্যক্তি দায়ী l
এক সুভাস বোস আর দুই জিয়াউর রহমান l
সুভাস বোসঃ
ব্রিটিশ আমলে সুভাষ বোসের আজাদ হিন্দ এর বীরত্ব তারা দেখেছে l আজাদ হিন্দ ফৌজকে এমনভাবে গঠন করা হচ্ছিল যে, তারাও জাপানি সৈন্যের সঙ্গে ভারত অভিযানে আসবে। কিন্তু জাপানি সেনাপতি টেরাউচি তিনটি কারণে এতে আপত্তি জানান। তিনি মনে করেন পরাজয়ের কারণে ভারতীয়রা ভগ্নোৎসাহ, জাপানিদের মতো কষ্টসহিষ্ণু নয় এবং মূলত তারা ভাড়াটে সৈনিক। তাই তিনি বলেন যে, জাপানিরাই ভারত অভিযানে যাবে এবং ভারতীয় বাহিনী সিঙ্গাপুরে থাকবে। সুভাষ এ প্রস্তাব মেনে নিতে পারেন নি। অনেক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, মাত্র এক রেজিমেন্ট ভারতীয় সৈন্য জাপানি সৈন্যদলের সঙ্গে ভাগ হয়ে যুদ্ধ করবে, যদি দেখা যায় তারা যুদ্ধক্ষেত্রে জাপানিদের সমকক্ষ তাহলে আরও ভারতীয় সৈন্য গ্রহণ করা হবে। যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য পূর্বের গান্ধী, আজাদ ও নেহরু ব্রিগেডে বিভক্ত আজাদ হিন্দ ফৌজ থেকে বাছাই করে ‘সুভাষ ব্রিগেড’ নামে নতুন একটি ব্রিগেড গঠিত হয়।
জিয়াউর রহমানঃ
৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে তৎকালীন পর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জিয়ার বেঙ্গল রেজিমেন্টের দুর্ধষ যুদ্ধও তারা দেখেছে এবং ৭১এ ৩৫ বছরের এক ‘মেজর’ নিজ দায়িত্বে ঘোষণা করেন বিদ্রোহ। এটিই স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম বিদ্রোহ।
১৯৭১ সালের মার্চ ২৬ এর প্রথম প্রহরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রথম বিদ্রোহ করেন সেটি ছিলো অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের খেলার মাঠ। এই মাঠে দাঁড়িয়েই অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের জড়ো করে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
এই ত্রিভীতির কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কোনো বেঙ্গল রেজিমেন্ট তৈরী করেনি l




